এইচএমপিভি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত দেশে, কতটা মারাত্মক এটি


করোনা, এমপক্স, এবং রিওভাইরাসের পরে দেশেও নিউ যেন একসুরা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি)। দেশে রোববার (১২ জানুয়ারি) এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ, এবং গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

জানা গেছে, এইচএমপিভি শ্বাসতন্ত্রবাহিত সংক্রামক ব্যাধির জন্য দায়ী ভাইরাস। ইনফ্লুয়েন্জা ভাইরাসে, করোনাভাইরাসের মতো কাছাকাছি বৈশিষ্ট্য বা মিল রয়েছে এইচএমপিভি ভাইরাসের। ২০০১ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল নেদারল্যান্ডসে। বাংলাদেশেও ২০০১ সাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে। ২০০১ সালের আগে হয়তো এই ভাইরাসটি পৃথিবীতে ছিল। কিন্তু এখন চোখে ধরা পড়ে ২০০১ সালে।

যেভাবে ছড়ায় এইচএমপিভি

ইনফ্লুয়েন্জা এর মতোই এইচএমপিভি ছড়িয়ে পড়ে। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এইচএমপিভি ছড়ায়। এইচএমপিভি আক্রান্ত হাঁচি-কাশি লেগে থাকা ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড় বা কোনও বস্তু এমনকি কোনও জায়গা অন্য কেউ স্পর্শ করলে সেই হাত নিজের নাক-মুখে স্পর্শে করলে সেখান থেকে এইচএমপিভি হতে পারে। সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ ও হাঁচি-কাশির মাধ্যমেই এইচএমপিভি ছড়ানোর ইতিহাস আছে।

ইনফ্লুয়েন্জা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে যেসব লক্ষণ দেখা যায়, এইচএমপিভি ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণ অনেকটা একই রকম। এইচএমপিভি সংক্রমিত ব্যক্তির জ্বর হবে, হাঁচি-কাশি হতে পারে, কাশি থেকে কারো কারো গলা ব্যথা হতে পারে।

এইচএমপিভি কতটা মারাত্বক

শিশু, বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এই রোগটি জটিলতা বাড়াতে পারে। এছাড়া যারা ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, ক্যানসার, কিডনিজনিত জটিলতা, এশমা ও অন্যান্য রোগে ভূগছেন, কোনও ঔষধ খাওয়ার কারণে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে তাদের ও অন্তঃসত্ব্বা নারীদের জন্য মারাত্বক হতে পারে। এই ভাইরাসের যে রূপ সেটির বিভিন্ন রকম শ্রেণিবিন্যাস করেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এইচএমপিভি ভাইরাসের মিউটেশন হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। গুরুতর ফর্মে যাওয়া এবং মানুষের খুব বেশি ক্ষতি করতে সক্ষম, মৃত্যুহার খুব উঁচু এমন পর্যায়ে যায়নি এইচএমপিভি।

এইচএমপিভি চিকিৎসা

এই ভাইরাসের চিকিৎসায় সরাসরি কোনও অ্যান্টিভাইরাল ঔষধ নেই। অধিকাংশ ভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও ঔষধ নেই। এক্ষেত্রে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং এর পাশাপাশি রোগীর যত্ন নিশ্চিত করতে হবে। এটি এমনিতে সেরে যায় নির্দিষ্ট সময় পর। তবে রোগ যাতে গুরুতর পর্যায়ে না যায়, সেজন্য সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। শরীরে যদি অন্য কোনও সংক্রমণ থেকে থাকে, সেটার জন্য ঔষধ দেওয়া হয় রোগীকে। যাতে ওই সংক্রমণ এবং এইচএমপিভি ভাইরাসের সংক্রমণ যুক্ত হয়ে জটিল অবস্থা তৈরি করতে না পারে।

করোনার মতো মহামারি পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে যদি এমন অবস্থা হয়, এখনো এইচএমপিভি ভাইরাস। তবে রোগটি যত বেশি ছড়াবে, তত বেশি আশঙ্কা থাকে যে ভাইরাসটি তার ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটাতে পারে, খুব বৃদ্ধি হতে পারে, আবার কমেও যেতে পারে।

এইচএমপিভি ভাইরাস প্রতিরোধ একই ভাবে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত বিরতিতে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় নাক-মুখে রুমাল, টিস্যু বা কনুই দিয়ে ঢেকে নিতে হবে, সংক্রমিত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, এইচএমপিভি সংক্রমিত ব্যক্তির কৌ মাস্ক পরিধান করতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদেরও মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

জ্বর হলে রোগীকে বিশ্রাম নিতে হবে নিজ অবস্থানে, অন্যান্য ভাইরাল জ্বরের মতো তিন দিনের ভিতরে জ্বর কমে যাবে। যদি জ্বর না কমে তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হবে।

ডেইলি নয়াবেলা /এসএপি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন